পুঁই মাচা । বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় । সম্পূর্ণ গল্প । Pui Macha
পুঁই মাচা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সহায়হরি আশ্চর্য হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন—কেন? কি গুজব?
সহায়হরি আমতা করিয়া বলিতে গেলেন—তা এনেছে ছেলেমানুষ খাবে বলে…তুমি আবার…বরং…
সহায়হরি বাধা দিয়া বলিতে গেলেন—এই শ্রাবণে তেরোয়…
ক্ষেন্তি তাড়াতাড়ি উত্তর দিল—এই যে যাই মা, এক্ষুনি যাব আর আসব।
অন্নপূর্ণা ডাকিলেন—ক্ষেন্তি, এদিকে একবার আয় তো, শুনে যা…
দু-তিন দিন পরে একদিন বৈকালে, ধূলামাটি মাখা হাতে ক্ষেন্তি মাকে আসিয়া বলিল—মা মা, দেখবে এস…
ক্ষেন্তি বলিল—কেন, আমি রোজ জল ঢালব?
—আচ্ছা দিচ্ছি বাবা—কই শীত, তেমন তো…
মেজমেয়ে পুঁটি বলিল—জেঠাইমারা অনেকখানি দুধ নিয়েছে, রাঙাদিদি ক্ষীর তৈরী করছিল, ওদের অনেক রকম হবে।
অন্নপূর্ণা বলিলেন—নে, কিন্তু এখানে বসে খাস নো মুখ থেকে পড়বে না কি হবে, যা ঐদিকে যা।
ও-পাড়ার ঠানদিদি বলিলেন—তোর বাবা তোর বাড়ী যাবে কেন রে, আগেনাতি হোক—তবে তো…
অল্পক্ষণ পরে বিষ্ণু সরকার বলিলেন—তারপর?
বিষ্ণু সরকার সমর্থনসূচক একটা অস্পষ্ট শব্দ করিয়া বারকতক ঘাড় নাড়িলেন।
রাধী বলিতেছে—আর একটু জল দিতে হবে মা, অত ঘন করে ফেললে কেন?
পুঁটি বলিল—আচ্ছা মা, ওতে একটু নুন দিলে হয় না?
—ওমা দেখ মা, রাধীর দোলাই কোথায় ঝুলছে এক্ষুনি ধরে উঠবে…
পুঁটি বলিল—মা, দাও, প্রথম পিঠেখানা কানাচে ষাঁড়া ষষ্ঠীকে ফেলে দিয়ে আসি।
অন্নপূর্ণা বলিলেন—একা যাস নে, রাধীকে নিয়ে যা
পুঁটি ও রাধী ফিরিয়া আসিলে অন্নপূর্ণা জিজ্ঞাসা করিলেন—দিলি?
পুঁটি বলিল—হ্যাঁ মা, তুমি আর বছর যেখান থেকে নেবুর চারা তুলে এনেছিলে সেখানে ফেলে দিলাম…
বাংলার গ্রামীণ জীবনের দারিদ্র্য, অসহায়তা এবং পারিবারিক সম্পর্কের নিপুণ চিত্র। গল্পটি ক্ষেন্তি নামের এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ের অকালমৃত্যু এবং তার জীবনের করুণ কাহিনী তুলে ধরে। পুঁইশাকের গাছটি এখানে ক্ষেন্তির জীবনের অদম্য আকাঙ্ক্ষা ও সংসারের প্রতি অনুরাগের প্রতীক হিসেবে কাজ করে ।- গল্পকার ও প্রেক্ষাপট: কালজয়ী কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই গল্পটি রচনা করেছেন । এটি বাংলার পল্লী প্রকৃতির এক বাস্তব চিত্র ।
- প্রধান চরিত্র: ক্ষেন্তি (কেন্দ্রীয় চরিত্র), সহায়হরি (পিতা) এবং অন্নপূর্ণা (মা) ।
- কাহিনী সংক্ষেপ:দরিদ্র সহায়হরি চ্যাটার্জির বড় মেয়ে ক্ষেন্তি, যে খুব সাধারণ গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠে, অথচ সংসারের প্রতি তার ছিল অসীম ভালোবাসা । বিয়ের পর তার করুণ পরিণতি এবং পারিবারিক দারিদ্র্যের চিত্র গল্পটিতে ফুটে উঠেছে ।

