‘হৈমন্তী’ গল্পে যৌতুকপ্রথা ও আধুনিক নারীভাবনা: হৈমন্তী চরিত্রের ট্র্যাজেডি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হৈমন্তী’ গল্পটা পড়ার পর মনটা কেমন ভারী হয়ে থাকে অনেকক্ষণ। এটা শুধু একটা গল্প মনে হয় না, মনে হয় আমাদের চারপাশেরই কোনো মেয়ের জীবনের গল্প। গল্পটা প্রথম বেরিয়েছিল ১৯১৪ সালে, সবুজপত্র পত্রিকায়। আজ থেকে একশো বছরেরও বেশি আগে। কিন্তু অবাক লাগে, এত বছর পরেও গল্পটা পুরনো মনে হয় না।
 
গল্পের মূল মানুষটি হৈমন্তী। শান্ত, সরল একটা মেয়ে। পড়াশোনা জানে, মিথ্যা বলতে জানে না, নিজের একটা সম্মানবোধ আছে। এই সাধারণ গুণগুলোই কিন্তু তার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়ায়। কারণ সে এমন এক সমাজে জন্মেছে, যেখানে এই গুণগুলোর কোনো দাম নেই। সেখানে দাম আছে টাকার, গয়নার, আর বংশের অহংকারের।
 
হৈমন্তী শুধু একজন বউয়ের দুঃখের গল্প নয়। এই গল্পের ভেতর দিয়ে রবীন্দ্রনাথ আমাদের সমাজের অনেকগুলো মুখোশ খুলে দিয়েছেন - যৌতুকের লোভ, মেয়েদের ছোট করে দেখা, বাইরে ভদ্র ভেতরে লোভী হয়ে থাকা সমাজ, আর পরিবারের ভেতরে পুরুষের একচ্ছত্র ক্ষমতা।

 

গল্পটা যে সময়ের, সেই সময়টা কেমন ছিল?

এটা বোঝা খুব জরুরি। তখন বাঙালি সমাজে মেয়েদের বিয়ে নিয়ে এক অদ্ভুত ভয় কাজ করত। মেয়ের বয়স একটু বেড়ে গেলেই হলো, পাড়ায় কথা উঠে যেত। মনে করা হতো, মেয়ে বুঝি আর পার হলো না। আর বয়স যত বাড়ে, বরপক্ষের দাবিও তত বাড়ে।

তখন মেয়ের মানুষ হিসেবে কী গুণ আছে, সে কেমন মনের মানুষ, সে পড়াশোনা জানে কিনা - এসব কেউ জানতে চাইত না। সবাই জানতে চাইত একটাই জিনিস - মেয়ের বাবার কত টাকা আছে, সঙ্গে কী দেবে।

ঠিক এই সময়টাতেই হৈমন্তীর বিয়ে হয় অপূর্বর সঙ্গে। হৈমন্তীর বয়স তখন খুব বেশি না, কিন্তু সেই সময়ের হিসেবে তাকে একটু বেশি বয়সী কনে হিসেবেই দেখা হয়েছিল। সবাই বলেছিল, মেয়ে আইবুড়ো হয়ে গেছে। ভাবুন একবার, একটা মেয়ের বয়সটাই তখন তার দোষ হয়ে যাচ্ছে।

রবীন্দ্রনাথ এখানে খুব সূক্ষ্মভাবে খোঁচা দিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে একটা মেয়ের বয়স, তার বাবার টাকা আর যৌতুকের পরিমাণ - এই তিনটে জিনিস মিলে মেয়েটাকে একটা পণ্যে পরিণত করছে। যেন বাজারে কোনো জিনিস কেনাবেচা হচ্ছে।

যৌতুক - বিয়েটা তখন আর বিয়ে থাকে না

‘হৈমন্তী’ গল্পের সবচেয়ে বড় এবং কষ্টের জায়গাটা হলো যৌতুক।

আমাদের কাছে বিয়ে মানে দুটো মানুষের একসঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব। কিন্তু হৈমন্তীর শ্বশুরবাড়ির কাছে বিয়েটা ছিল একটা ব্যবসা। কীভাবে মেয়ের বাড়ি থেকে আরও বেশি টাকা আনা যায়, সেই সুযোগ।

হৈমন্তীর বাবা গৌরীশঙ্কর বাবু কিন্তু কমতি করেননি। তিনি তার সাধ্যমতো সব দিয়েই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেন। একজন বাবা তার মেয়ের জন্য যা করতে পারে, তিনি তার সবটুকুই করেছিলেন। কিন্তু সমস্যা হলো, লোভের কোনো শেষ নেই। যৌতুকের সবচেয়ে খারাপ দিক এটাই। একবার দাবি মেটালে আরেকটা দাবি এসে হাজির হয়।

শ্বশুরবাড়ির লোকেরা হৈমন্তীকে মানুষ হিসেবে দেখলই না। তারা সারাক্ষণ হিসাব করত, তার বাবা আর কী দিতে পারত, কেন দিল না, কতটা কম দিল। মানে, হৈমন্তীর নিজের কোনো পরিচয় নেই। তার পরিচয় হলো সে কত টাকার মেয়ে।

এই জায়গা থেকেই একটা বড় প্রশ্ন ওঠে, যে প্রশ্নটা রবীন্দ্রনাথ একশো বছর আগে তুলেছিলেন আর আজও আমাদের ভাবায় - একটা মেয়ের দাম কি তার বাবার টাকা দিয়ে ঠিক হবে?

বয়সটাও যখন মেয়েদের অপরাধ

হৈমন্তীর আরেকটা দোষ ছিল, সে নাকি বেশি বয়সে বিয়ে করেছে। আজকের দিনে শুনলে হাসি পায়। কিন্তু তখন ষোল-সতেরো বছরের মেয়েকেও লোকে আইবুড়ো বলত।

আজ আমরা একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আছি। এখন আমরা বলি, একটা মেয়ে কবে বিয়ে করবে সেটা তার নিজের সিদ্ধান্ত। সে পড়াশোনা শেষ করে করবে, চাকরি পেয়ে করবে, নাকি করবেই না - সেটা একান্তই তার ব্যাপার। সমাজের ভয়ে তড়িঘড়ি করে বিয়ে করার দিন আর নেই।

কিন্তু হৈমন্তীর সময়ে এই স্বাধীনতাটা ছিল না। তার বয়স নিয়ে যে খোঁচা, যে কথা, সেটা আসলে প্রমাণ করে সমাজ মেয়েদেরকে কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইত। মেয়েরা যেন নিজের জীবন নিয়ে ভাবতেই না পারে।

হৈমন্তী - যে মেয়েটা মিথ্যা বলতে শেখেনি

হৈমন্তীর চরিত্রের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো তার সত্যের প্রতি ভালোবাসা। সে একদম সহজ, সরল। নিজের বয়স কমিয়ে বলা, বা মিথ্যা বলে নিজেকে ভালো দেখানো - এসব তার দ্বারা হয় না।

এটাই তার জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। কারণ সে যে বাড়িতে বউ হয়ে গেছে, সে বাড়ির মানুষগুলো মুখে এক, মনে আরেক। ওপরে খুব ভদ্রতা, ভেতরে পুরোটাই হিসাব আর লোভ।

আমাদের সমাজে অনেক সময় মেয়েদের শেখানো হয়, মানিয়ে নাও, মুখ বুজে সহ্য করো, শ্বশুরবাড়ির অন্যায় দেখলেও চুপ করে থাকো। কিন্তু হৈমন্তী এই মানিয়ে নেওয়ার খেলাটা পারে না। তার কাছে সত্য কোনো বইয়ের কথা নয়, সত্য হলো তার বেঁচে থাকার অংশ। তাই মিথ্যার সঙ্গে তার সংঘাত বাধবেই।

আর এই সংঘাতটাই তাকে আস্তে আস্তে একা করে দেয়।

বাবাকে অপমান করা - হৈমন্তীর বুকে সবচেয়ে বড় আঘাত

গল্পে একটা জায়গা আছে যেখানে হৈমন্তী সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায়। সেটা হলো তার বাবার অপমান।

একটা মেয়ের কাছে তার বাবা সবসময়ই একটা আবেগের জায়গা। হৈমন্তী জানে তার বাবা তাকে কতটা ভালোবাসে। সে জানে, তার বাবা তার জন্য নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছে।

অথচ শ্বশুরবাড়ির লোকেরা সেই বাবাকেই টাকার মাপকাঠিতে মাপে। তারা ভাবে, লোকটার আরও টাকা আছে, সে ইচ্ছে করে দিচ্ছে না।

রবীন্দ্রনাথ এখানে একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। যৌতুক শুধু মেয়েটাকে ছোট করে না, মেয়েটার বাবা-মাকেও ছোট করে। তাদের ভালোবাসা, তাদের চেষ্টা - সবকিছুকে টাকার অঙ্কে নামিয়ে আনে।

গৌরীশঙ্কর বাবুর অসহায়তাটা দেখলে বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। তিনি বুঝতে পারছেন তার মেয়েটা কষ্টে আছে, কিন্তু তিনি কিছু করতে পারছেন না। সমাজের নিয়ম, পরিবারের চাপ - এসবের সামনে একজন মধ্যবিত্ত বাবা কতটা অসহায়, সেটাই যেন তিনি।

অপূর্ব - যে ভালোবাসে কিন্তু পাশে দাঁড়ায় না

এবার আসি অপূর্বর কথায়। হৈমন্তীর স্বামী।

অপূর্ব খারাপ মানুষ নয়। সে হৈমন্তীকে ভালোবাসে, এটা সত্যি। কিন্তু তার ভালোবাসাটা দুর্বল। তার ভালোবাসায় সাহস নেই।

সে দেখছে তার বউয়ের সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে, তার বাবাকে অপমান করা হচ্ছে, কিন্তু সে চুপ করে আছে। পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে একটা কথা বলার জোর তার নেই।

এখানেই রবীন্দ্রনাথ আমাদের একটা কঠিন প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দেন - শুধু ভালোবাসলেই কি হয়? ভালোবাসার মানুষটি যখন বিপদে পড়ে, তখন পাশে না দাঁড়ালে সেই ভালোবাসার দাম কী?

রবীন্দ্রনাথের উত্তর খুব স্পষ্ট। শুধু ভালোবাসা দিয়ে কাউকে বাঁচানো যায় না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস না থাকলে, ভালোবাসাও একসময় অর্থহীন হয়ে যায়। অপূর্বর এই চুপ করে থাকাটাই হৈমন্তীর জীবনে সবচেয়ে বড় অন্ধকার ডেকে আনে।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে হৈমন্তীকে দেখলে

একশো বছর আগের হৈমন্তীকে যদি আজকের চোখ দিয়ে দেখি, তাহলে কী দেখব?

আজকের দিনে আমরা বলি, মেয়েরা শুধু কারও স্ত্রী বা কারও বউ নয়, তারা একজন মানুষ। তাদের নিজস্ব পরিচয় আছে, অধিকার আছে, স্বপ্ন আছে। এই দৃষ্টিতে হৈমন্তীকে দেখলে বোঝা যায়, সে কতটা আধুনিক ছিল।

তার মধ্যে যা ছিল, তা আজকের অনেক মেয়ের মধ্যেই আমরা খুঁজি -

নিজের সম্মান নিয়ে বাঁচার ইচ্ছে, সত্যি কথা বলার সাহস, নিজের মতো করে ভাবতে পারা, কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করা, বাবার প্রতি গভীর ভালোবাসা, আর মিথ্যা ও ভণ্ডামিকে ঘৃণা করা।

হয়তো সে আজকের মতো চাকরি করা, নিজের পায়ে দাঁড়ানো স্বাধীন মেয়ে ছিল না। কিন্তু তার মনের জোর, তার ব্যক্তিত্ব - সেটা পুরোপুরি আধুনিক।

যদি হৈমন্তী আজকের মেয়ে হতো?

এই প্রশ্নটা খুব ভাবায়। যদি হৈমন্তী ২০২৬ সালে জন্মাত, তাহলে তার জীবনটা কেমন হতো?

হয়তো অনেক সহজ হতো। সে পড়াশোনা শেষ করত, নিজের পছন্দে চাকরি করত। সে নিজের পছন্দে বিয়ে করত। কেউ যৌতুক চাইলে সে সোজা না বলে দিত। শ্বশুরবাড়িতে অন্যায় হলে সে প্রতিবাদ করত। আর যদি দেখত সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়, তাহলে সে বেরিয়ে আসার সাহসও রাখত। কারণ আজ তার হাতে আইন আছে, শিক্ষা আছে, নিজের পরিচয় আছে।

কিন্তু এখানেই একটা খটকা লাগে। আজকের দিনেও কি সব হৈমন্তীরা নিরাপদ?

সত্যি বলতে, না।

আমরা যতই আধুনিক হই না কেন, খবরের কাগজ খুললেই এখনো যৌতুকের জন্য অত্যাচারের খবর পড়ি। এখনো অনেক পরিবারে বিয়ের সময় ছেলের চাকরি, বেতন দেখে দর কষাকষি হয়। মেয়ের বাড়ি থেকে কী দেবে, সেই হিসাব চলে। রূপ বদলেছে, কিন্তু লোভটা কোথাও কোথাও রয়েই গেছে।

তাই হৈমন্তী আজও পুরনো গল্প নয়। সে আমাদের আয়না।

হৈমন্তীর এই পরিণতির জন্য দায়ী কে?

অনেকেই বলবে, তার শ্বশুর-শাশুড়ি দায়ী। কিন্তু শুধু দুটো মানুষকে দোষ দিলে পুরো ছবিটা বোঝা যাবে না। হৈমন্তীর মৃত্যুর পেছনে একটা গোটা সমাজের চিন্তাভাবনা কাজ করেছে।

প্রথমত, যৌতুকপ্রথা। যেটা মেয়েকে মানুষ নয়, টাকার বস্তা ভাবে।

দ্বিতীয়ত, পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব। যেখানে মেয়েদের নিজস্ব কোনো মতামত থাকতে নেই।

তৃতীয়ত, বয়স নিয়ে কুসংস্কার। যেখানে মেয়ের বয়স বাড়লেই তাকে বোঝা মনে করা হয়।

চতুর্থত, টাকার লোভ। যেখানে বিয়েটা ভালোবাসার সম্পর্ক নয়, লাভের হিসাব।

পঞ্চমত, পরিবারের ক্ষমতার অপব্যবহার। যেখানে নতুন বউকে সবসময় চাপে রাখা হয়, ছোট করা হয়।

ষষ্ঠত, অপূর্বর মতো মানুষের চুপ থাকা। যখন অন্যায় দেখেও কেউ প্রতিবাদ করে না, তখন অন্যায় আরও বড় হয়ে ওঠে।

আর সপ্তমত, মেয়েদের অসহায় অবস্থা। হৈমন্তীর নিজের জীবন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারই ছিল না।

এই সবকিছু মিলেই হৈমন্তীকে শেষ করে দিয়েছিল।

এটা কি শুধুই একটা দুঃখের গল্প?

না, মোটেও না। হৈমন্তী শুধু কাঁদানোর জন্য লেখা হয়নি।

এটা আসলে আমাদের সমাজের ব্যর্থতার গল্প। যে সমাজ একজন সৎ, শিক্ষিত, আত্মমর্যাদা আছে এমন মেয়েকে সম্মান করতে পারে না, বরং তার বাবার টাকা দিয়ে তাকে মাপে, সেই সমাজ কতটা অসুস্থ, রবীন্দ্রনাথ সেই প্রশ্নটাই তুলেছেন।

হৈমন্তীর মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়। এটা একটা সামাজিক অপরাধের ফল। আর সেই জন্যই আজও যখন কোনো মেয়ে যৌতুকের জন্য কষ্ট পায়, আমরা বলি - আরেকজন হৈমন্তীর গল্প তৈরি হলো।

আজকের দিনে হৈমন্তী কেন এখনো প্রাসঙ্গিক?

আমরা এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করি, মেয়েরা প্লেন চালায়, অফিস চালায়, নিজের ব্যবসা করে। মেয়েরা এখন অনেক এগিয়ে।

কিন্তু তারপরেও, বিয়ের সময় এখনো অনেক জায়গায় ছেলের পরিবার থেকে ইশারায় বা সরাসরি অনেক কিছু আশা করা হয়। একটা ভালো চাকরি করা ছেলের জন্য অনেক বেশি দাবি করা হয়। আর মেয়ের পরিবারকেও দেখা হয় তারা কতটা দিতে পারবে।

তাই হৈমন্তী আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় -

বিয়ে কোনো বেচাকেনা নয়। মেয়ে কোনো বোঝা নয় যে টাকা দিয়ে পার করতে হবে। আর ছেলে কোনো পুরস্কার নয় যে তাকে কিনতে হবে।

আধুনিক হওয়ার আসল মানে হলো, একটা মেয়েকে তার নিজের পরিচয়ে, তার মানুষ হিসেবে সম্মান করা। তার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া।

শেষ কথা

রবীন্দ্রনাথের ‘হৈমন্তী’ পড়লে বোঝা যায়, একশো বছর আগে তিনি কতটা সামনে তাকিয়ে ছিলেন। তিনি একটা মেয়ের কষ্টের ভেতর দিয়ে গোটা সমাজের লোভ, ভণ্ডামি আর নিষ্ঠুরতাকে দেখিয়ে দিয়েছিলেন।

হৈমন্তী ছিল সৎ, সরল আর সম্মান নিয়ে বাঁচতে চাওয়া একটা মেয়ে। কিন্তু যে সমাজে মানুষের চেয়ে টাকার দাম বেশি, সেখানে তার মতো মেয়েরা টিকতে পারে না। এটাই তার ট্র্যাজেডি।

আজকের দিনে হৈমন্তীকে পড়ার মানে হলো, তার ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা নেওয়া। আজকের মেয়েরা অনেক বেশি সাহসী, শিক্ষিত, সচেতন। কিন্তু যতদিন পর্যন্ত সমাজে যৌতুকের লোভ আর মেয়েদের ছোট করে দেখার মানসিকতা থাকবে, ততদিন হৈমন্তীর প্রশ্নগুলো আমাদের তাড়া করে বেড়াবে।

তাই এই গল্পের সবচেয়ে বড় শিক্ষা একটাই - কোনো মেয়েকে তার বাবার সম্পত্তি দিয়ে নয়, তাকে একজন পূর্ণ মানুষ হিসেবে দেখতে শিখুন। তার সম্মান, তার ইচ্ছে, তার স্বপ্নকে সম্মান করুন।

হৈমন্তীর চলে যাওয়াটা শুধু গল্পের শেষ নয়, এটা আমাদের সমাজের কাছে একটা চিরকালের প্রতিবাদ হয়ে থাকবে - যৌতুক, নারীর প্রতি অবহেলা আর মিথ্যা সামাজিকতার বিরুদ্ধে এক নীরব কিন্তু খুব শক্ত প্রতিবাদ।

 

হৈমন্তী গল্প বিশ্লেষণ, রবীন্দ্রনাথের হৈমন্তী, যৌতুকপ্রথা ও নারী নির্যাতন

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url