অপরিচিতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন-১. অনুপমকে পণ্ডিত মশায় বিদ্রুপ করতেন কেন?
উত্তর: অনুপমের চেহারা সুন্দর হলেও গুণহীন হওয়ার কারণে পণ্ডিত মশায় তাকে শিমুল ফুল ও মাকাল ফলের সঙ্গে তুলনা করে বিদ্রুপ করতেন।
'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের ছিল সুন্দর চেহারা কিন্তু সেই অনুপাতে তেমন কোনো গুণ ছিল না। পড়ালেখায়ও তেমন সন্তোষজনক ফল ছিল না। একথা সর্বজনবিদিত যে দেখতে সুন্দর হলেও মাকাল ফল দুর্গন্ধযুক্ত ও খাওয়ার অনুপযোগী। সে কারণে পণ্ডিত মশায় ছেলেবেলায় তাকে শিমুল ফুল ও মাকাল ফলের সঙ্গে তুলনা করে বিদ্রুপ করতেন।
প্রশ্ন-২. শেষ পর্যন্ত অনুপমের বয়স পুরোপুরি হলো না কেন?
উত্তর: পিতার অর্থ প্রাচুর্য ও কোলে কোলে মানুষ হওয়ায় অনুপম পরনির্ভরশীল হয়ে বেড়ে ওঠে ফলে শেষ পর্যন্ত তার পুরোপুরি বয়স হয়নি।
অনুপম তার মাতাপিতার একমাত্র সন্তান হওয়ায় সে খুব আদরযত্নে মানুষ হয়। আর মা ও মামার কারণে তার সংসারের কোনো কিছুই নিয়ে ভাবতে হয়নি কখনো। ফলে সে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারেনি। বয়স বাড়লেও মানসিক দিক থেকে সে অপরিপক্ক রয়ে যায়। আর এ কারণে শেষ পর্যন্ত অনুপমের বয়স পুরোপুরি হয়নি।
প্রশ্ন-৩. 'অন্নপূর্ণার কোলে গজাননের ছোটো ভাইটি।'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো। [রা. বো. ১৮; কু. বো. ১৮; চ. বো. ১৮; ব. বো. ১৮; ঢা. বো. ১৬]
উত্তর: নিজের পরনির্ভরশীল বৈশিষ্ট্যের জন্য ব্যঙ্গার্থে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি অনুপম নিজে নিজের সম্পর্কে করেছে।
দেবী দুর্গার দুই পুত্র- অগ্রজ গজানন বা গণেশ ও অনুজ কার্তিক। দেবী দুর্গার কোলে কার্তিক অপূর্ব শোভায় ভাস্বর। ছোটো হওয়ায় সবসময় দেবী অন্নপূর্ণা তাকে আদর-স্নেহে কোলে কোলে রাখেন। যেমন অনুপম তার মায়ের কোলে কোলে মানুষ হয়। মায়ের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় পরিণত বয়সেও তার স্বাধীন ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে না। তার নিজস্বতা বলতে কিছু নেই। তাকে দেখলে মনে হয় আজও সে যেন মায়ের কোলে থাকা শিশুমাত্র। এজন্য ব্যঙ্গ করে অনুপম নিজে নিজেকে গজাননের ছোটো ভাই কার্তিকের সঙ্গে তুলনা করে।
উত্তর: অনুপমদের পরিবারে ব্যাপক প্রভাব বিস্তারের কারণে অনুপমের মামাকে উদ্দেশ করে কথাটি বলা হয়েছে।
'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের আসল অভিভাবক তার মামা। অনুপমের জীবনের সব সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই মামার ভূমিকাই প্রধান। তিনি অনুপমের চেয়ে মাত্র ছয় বছরের বড়ো। অথচ সংসারে তাঁর মতামত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফল্গু একটি নদীর নাম। যার উপরের অংশে বালির আস্তরণ কিন্তু ভিতরে জলস্রোত প্রবাহিত। অনুপমের মামার সর্বেসর্বা হয়ে সমস্ত দায়দায়িত্ব পালনের বিষয়টিকে এ নদীর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। কেননা, অনুপমের মামা ফল্গু নদীর বালির মতো তাদের সংসারটাকে. নিজের অন্তরের মধ্যে শুষে নিয়েছেন। আর এ বিষয়টি বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
প্রশ্ন-৫. কন্যার পিতা মাত্রেই স্বীকার করিবেন আমি সৎপাত্র।'- কেন? [রা. বো. ১৬]
উত্তর: 'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমকে মাতৃআজ্ঞাবহ, নিরীহ এক চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে- প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে সে বিষয়টির ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ভালো মানুষ হওয়ার কোনো ঝঞ্ঝাট না থাকায় অনুপম স্বভাবতই একজন ভালো মানুষ। এমএ পাশ অনুপম মায়ের আদেশ যথাযথভাবে পালন করে। এমনকি সে তামাক পর্যন্ত খায় না। বাঙালি সমাজে বিয়ের প্রসঙ্গে সৎপাত্র সম্পর্কে যে প্রচলিত বদ্ধ প্রোষিত ধারণা রয়েছে সেসব তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই অনুপমের বিশ্বাস-কন্যার পিতা মাত্রেই স্বীকার করবেন সে সৎপাত্র।
প্রশ্ন-৬.অনুপম তার মামাকে ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট বলেছে কেন? [কু. বো. ২৫; ম. বো. ২৪]
উত্তর: অনুপম মামার অনুমতি ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে মামাকে তার ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট বলেছে।
অনুপমের মামা তার অভিভাবক। এই জগতে মা ও মামা ছাড়া অনুপমের আর কেউ নেই। বাবা অনেক আগে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাই বর্তমানে মামার উপরই ন্যস্ত হয়েছে অনুপমের সংসারের ভালোমন্দ। তার মামার মন গলানো ছাড়া অনুপমের সংসার থেকে এক গণ্ডুষ জল পর্যন্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। অনুপম মামা ও মাকে অনেক সম্মান করে, তাদের মতের বাইরে যাওয়ার মানসিক ক্ষমতা তার নেই। তাই বিয়ের পাত্রী দেখতে যাওয়ার জন্য সবার আগে মামার অনুমতি প্রয়োজন। কেননা এই জগৎসংসারে মামাই তার প্রকৃত অভিভাবক মামা নিয়তির মতো অপরিহার্য ও অবশ্যম্ভবী তার জীবনে। আর এ বিষয়টি বোঝাতেই অনুপম মামাকে ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট বলেছে।
মামার ইচ্ছা বা অনুমতি ছাড়া কোনো কিছু করার ক্ষমতা অনুপমের নেই বলে মামাকে অনুপম ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট মনে করে।
প্রশ্ন-৭. 'ধনীর কন্যা তার পছন্দ নয়'- কার এবং কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ধনীর কন্যারা মাথা হেঁট করে স্বামীর সংসারে থাকতে নারাজ এবং কন্যাপক্ষ পণ দিতেও আগ্রহ দেখায় না। সংসারের সব যন্ত্রণা, অপমান নীরবে সহ্য করে। তাই অনুপমের মামার ধনীর কন্যা পছন্দ নয়।
অনুপমের বিয়ের ক্ষেত্রে মামার একটি বিশেষ মত ছিল যে তিনি বড়ো লোকের মেয়েকে অনুপমের বউ করে ঘরে আনতে চান না। কারণ, তিনি চাইতেন যে মেয়ে তাদের বাড়ির বউ হয়ে আসবে সে যেন মাথা নিচু করে আসে। যাকে ইচ্ছা হলেই শোষণ ও পীড়ন করা যাবে। যার বাড়ি থেকে আত্মীয় এলে যথাযথ সমাদর না করলেও চলবে। এ কারণে তিনি চেয়েছেন টাকা নেই এমন ঘরের মেয়ে অনুপমের বউ হয়ে আসুক।
প্রশ্ন-৮. হরিশ কীভাবে অনুপমের মন উতলা করে দিলো?
উত্তর: অনুপমের বিয়ে প্রসঙ্গে হরিশ তাকে কল্যাণীর সন্ধান দিলে তার মন উতলা হয়ে ওঠে।
হরিশ কানপুরে কাজ করে। ছুটিতে সে কলকাতা এসেছে। এদিকে অনুপমেরও পড়ালেখা শেষ হওয়ায় তার তেমন কোনো কাজ নেই। এমন অবকাশের সময় বন্ধু হরিশ একটি মেয়ের সন্ধান দেয়, তখন অনুপমের মনে এক ধরনের ব্যাকুলতা তৈরি হয়, কারণ সে জীবনে প্রথমবারের মতো ভালো কোনো মেয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়, যা তার মনকে উতলা করে তোলে।
প্রশ্ন-৯. অনুপমের মামা কেন হরিশকে পেলে ছাড়তে চান না?
উত্তর: আসর জমাতে অদ্বিতীয় রসিক হরিশকে অনুপমের মামা পছন্দ করত। তাই তাকে পেলে আর ছাড়তে চাইতেন না।
হরিশ ছিল আসর জমাতে অদ্বিতীয়। তাই সবাই তাকে খুব খাতির 'করে। কেননা তার সরস রসনার গুণ ও বাভঙ্গি সবাইকে মুগ্ধ করে। অনুপমের মামাও এজন্য তাকে খুব খাতির করেন। মূলত তার আসর জমানোর এই গুণের কারণেই মামা তাকে পেলে ছাড়তে, চান না।
প্রশ্ন-১০. 'মেয়ের চেয়ে মেয়ের বাপের খবরটাই তাহার কাছে গুরুতর।'- উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো। [য. বো. ২২, ১৯]
উত্তর: তৎকালীন সমাজে প্রচলিত যৌতুক প্রথার ঘৃণ্য ও অর্থলোভী মানসিকতাকে প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।
হরিশ অনুপমের মামার কাছে অনুপমের জন্য পাত্রীর সন্ধান দেয়। পাত্রীর কথা জানার চেয়ে মামার কাছে পাত্রীর বাবার বিষয়-সম্পত্তির ব্যাপারে জানার বেশি আগ্রহ দেখা যায়। রূপ বা গুণ নয় বরং তার বাবার আর্থিক সক্ষমতার মানদণ্ডে পাত্রীর যোগ্যতা যাচাই করে অনুপমের মামা। আলোচ্য উক্তিটিতে অনুপমের মামার যৌতুকলিন্সার দিকটি উন্মোচিত হয়েছে।
যৌতুকলোভের কারণে বিয়েতে কনের চেয়ে কনের পিতার আর্থিক অবস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রশ্ন-১১. 'এককালে ইহাদের বংশে লক্ষ্মীর মঙ্গলঘট ভরা ছিল।'-এখানে লক্ষ্মীর মঙ্গলঘট বলতে কী বোঝানো হয়েছে? [ঢা. বো. ২৪]
উত্তর: প্রশ্নোক্ত উক্তিতে 'লক্ষ্মীর মঙ্গলঘট' বলতে কল্যাণীদের বংশে একসময় লক্ষ্মীর কৃপায় ঐশ্বর্যের ঘট যে পূর্ণ ছিল, সে কথা বোঝানো হয়েছে।
'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের বন্ধু হরিশ কানপুরে থাকে। সে অনুপমের জন্য একটি বিয়ের প্রস্তাব আনে। পাত্রী কল্যাণীর সৌন্দর্য বা অন্য বিষয়াদির চেয়ে অনুপমের মামা পাত্রীর বাবার ধনসম্পদ সম্পর্কে জানতে বেশি আগ্রহী। কেননা, তার কাছে সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাকে আশ্বস্ত করতেই হরিশ বলে, 'এককালে ইহাদের বংশে লক্ষ্মীর মঙ্গলঘট ভরা ছিল।' মূলত কল্যাণীদের বংশপরম্পরায় দেবী লক্ষ্মীর কৃপায় অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো ছিল বোঝাতেই 'লক্ষ্মীর মঙ্গলঘট' কথাটির অবতারণা করা হয়েছে।
লক্ষ্মীর কৃপায় কল্যাণীদের বংশে ঐশ্বর্যের ঘট পূর্ণ ছিল বোঝাতে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
প্রশ্ন-১২.শম্ভুনাথ সেন পশ্চিমে গিয়ে বাস করছিলেন কেন?
উত্তর: দেশে বংশমর্যাদা রক্ষা করে চলা সহজ নয় বলে শম্ভুনাথ সেন পশ্চিমে গিয়ে বাস করছিলেন।
এককালে শম্ভুনাথ সেনদের বংশে লক্ষ্মীর মঙ্গলঘট ভরা ছিল। তাঁদের টাকাপয়সার কোনো অভাব ছিল না। কিন্তু বর্তমানে তেমন কিছু নেই বললেই চলে। আর সামান্য যা অবশিষ্ট আছে তা নিয়ে বংশমর্যাদা, আভিজাত্য ও ঐতিহ্য রক্ষা করে চলা সম্ভব নয় বলে তিনি পশ্চিমে গিয়ে বাস করছিলেন।
উত্তর: বিয়েতে বেশি পরিমাণে পণ পাওয়া যাবে ভেবে অনুপমের মামা বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন তা বুঝতে পেরেই অনুপমের মনে এমন ভাবোদয়ের সৃষ্টি হয়েছিল।
অনুপম ও তার মামার কাছে কল্যাণীর পরিবারের বৈষয়িক অবস্থার বিবরণ দিয়েছিল হরিশ। হরিশের বর্ণনা অনুযায়ী, একসময় কল্যাণীর বংশে লক্ষ্মীর মঙ্গলঘট ভরা ছিল, অর্থাৎ ধনসম্পদে পরিপূর্ণ ছিল তারা। বর্তমানে তাদের অবস্থা কিছুটা খারাপ হলেও তা যৎসামান্য 'যৎসামান্য' অর্থ- অল্পতম, ক্ষুদ্র] নয়। তাই কল্যাণীর পিছনেই লক্ষ্মীর ঘট, অর্থাৎ সমস্ত অর্থ উজাড় করে দিতে দ্বিধা করবেন না তার পিতা শম্ভুনাথ সেন।
প্রশ্ন-১৪. 'একে তো বরের হাট মহার্ঘ, তাহার পরে ধনুক-ভাঙা পণ।'- এই কথার অর্থ বুঝিয়ে দাও। [রা. বো. ১৯]
অথবা, একে তো বরের হাট মহার্ঘ, তাহার পরে ধনুক-ভাঙা পণ।'- ব্যাখ্যা করো। [সি. বো. ২৫; ব. বো. ২৫; দি. বো. ২৩, ব. বো. ২৩
উত্তর: সমাজে যোগ্য পাত্রের কদর ও যৌতুকের টাকার পরিমাণকে প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে।
কল্যাণীর বয়স পনেরো যা তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় বিয়ের যোগ্য কন্যার জন্য অনেকটাই বেশি। মোটা টাকা পণ দিতে হয় বলে সুপাত্র মেলাই ভার। তবে এ ব্যাপারে কল্যাণীর বাবা চিন্তিত নয়। বয়স যতই হোক উপযুক্ত পাত্র ছাড়া কন্যার বিয়ে না দিতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তখনকার সমাজে কন্যার পিতার এরূপ মনোভাবের প্রকাশ ঘটতে সাধারণত প্রত্যক্ষ করা যায় না।
প্রশ্ন-১৫. মামা কীভাবে অনুপমদের সমস্ত সংসারের প্রধান গর্বের সামগ্রীতে পরিণত হলেন?
উত্তর: অনুপমের মামা তাঁর দক্ষতা ও চাতুর্যের মাধ্যমে পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব ও ভার বহন করে। অনুপমদের সমস্ত সংসারের প্রধান গর্বের সামগ্রীতে পরিণত হলেন।
অনুপমদের সংসারের যাবতীয় ভার ছিল মামার উপর। তিনি তাদের সমস্ত সংসারটাকে আগলে রেখেছিলেন। অনুপমের বিয়ের পণ নির্ধারণেও তিনি চাতুর্যের পরিচয় দিয়েছেন। মামা তাঁর দক্ষতার জন্যই অনুপমদের সমস্ত সংসারের প্রধান গর্বের সামগ্রীতে পরিণত হলেন।
প্রশ্ন-১৬. 'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের মামা বিয়েবাড়িতে ঢুকে খুশি হলেন না কেন? [রা. বো. ২২]
উত্তর: বিয়েবাড়ির উঠানে বরযাত্রীদের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় এবং সমস্ত আয়োজন নিতান্ত মধ্যম রকমের হওয়ায় মামা সেখানে ঢুকে খুশি হলেন না।
শম্ভুনাথ সেনের এককালে প্রচুর ধনসম্পদ থাকলেও বর্তমানে তেমন কিছুই নেই। তাই শম্ভুনাথ সেনের আয়োজনে তেমন বাড়াবাড়ি ছিল না। আর বিয়েবাড়ির উঠানে বরযাত্রীদের জায়গারও সংকুলান হচ্ছিল না। এসব কারণে মামা বিয়েবাড়িতে ঢুকে খুশি হলেন না।
প্রশ্ন-১৭.মামা শম্ভুনাথ বাবুকে পাশের ঘরে ডেকে নিয়ে যান কেন?
উত্তর: অনুপমের মামা ভাগ্নের বিয়ের আগে কন্যার গহনা পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন বলে শম্ভুনাথ বাবুকে পাশের ঘরে ডেকে নিয়ে যান।
অনুপমের মামার জীবনের লক্ষ্য হলো কারো কাছে ঠকবেন না। শম্ভুনাথ সেন গহনা কম দিয়ে বা খাদযুক্ত গহনা দিয়ে তাঁকে ঠকাতে পারেন। এরূপ ভাবনা থেকে তিনি বিয়ের আগেই গহনাগুলো যাচাই করে দেখতে চান। আর এ জন্যই শম্ভুনাথ বাবুকে পাশের ঘরে ডেকে নিয়ে যান তিনি।
প্রশ্ন-১৮.মামা কেন বিয়ের কাজ শুরু হওয়ার আগেই কনের সব গহনা যাচাই করে দেখতে চাইলেন?
উত্তর: 'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের মামার অবিশ্বাসী মানসিকতার কারণে তিনি এমন আচরণ করেছিলেন।
মামার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য তিনি কারো কাছে ঠকবেন না। তার ভয় ছিল তার বেয়াই তাকে গহনায় ফাঁকি দিতে পারেন। আর বিয়ের কাজ শেষ হয়ে গেলে ফাঁকির প্রতিকার সম্ভব নয়। তাই বিয়ের কাজ শুরু হওয়ার আগেই মামা কনের সব গহনা যাচাই করে দেখতে চাইলেন।
প্রশ্ন-১৯. 'এসব কথায় আমার সম্পূর্ণ অনধিকার।'- কোন প্রসঙ্গে কেন বলা হয়েছে?
উত্তর: অনুপমের যৌতুকলোভী মামা যখন কনের সব গহনা যাচাই করতে চাইলেন তখন কনের বাবা অনুপমের মতামত জানতে চাইলে অনুপম ইশারার মাধ্যমে উদ্ধৃত কথাটির পক্ষে অবস্থান নেয়।
অনুপমের বিয়ের লগ্ন উপস্থিত হলে তার সন্দেহপ্রবণ ও লোভী মামা কল্যাণীর সমস্ত গহনা পরখ করার জন্য সেকরাকে ডেকে নিয়ে আসেন। তখন কনের বাবা শম্ভুনাথ সেন অনুপমের মতামত জানতে চান। কিন্তু অনুপমের ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তার অভাবের কারণে সে তার মামার বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারে না। তাই মামার অন্যায় আবদারেও চুপ করে থাকে এবং বলে এসব ব্যাপারে কথা বলার অধিকার তার নেই।
প্রশ্ন-২০. অনুপমের মামা কেন বাড়িতে সেকরা নিয়ে এসেছিল?
উত্তর: অনুপমের মামা যৌতুকলোভী ও হীন মানসিকতার মানুষ হওয়ায় বিয়ের গহনা পরীক্ষা করতে সেকরাকে বিয়েবাড়িতে এনেছিলেন।
কল্যাণীর বিয়েতে তার বাবা শম্ভুনাথ সেন নগদ পণের সঙ্গে অনেক গহনা দেন। অনুপমের সন্দেহবাতিক মামা শম্ভুনাথ সেনের কথায় আস্থাশীল ছিলেন না। কন্যাপক্ষ যে গহনা দেবে তা আসল না নকল সেটি, পরীক্ষা করার জন্য তিনি বিয়েবাড়িতে সেকরাকে সঙ্গে এনেছিলেন।
প্রশ্ন-২১. শম্ভুনাথ বাবু কেন মেয়ের গা থেকে সমস্ত গহনা খুলে আনলেন?
উত্তর: 'অপরিচিতা' গল্পে বিয়ের দিনে অনুপমের মামার সেকরা দিয়ে কল্যাণীর গায়ের গহনা পরীক্ষা করতে চাওয়ায় তিনি মেয়ের গা থেকে সমস্ত গহনা খুলে আনেন।
অনুপমের মামা শম্ভুনাথ সেনের মুখের কথায় ভরসা করতে পারেননি বলে সেকরাকে সঙ্গে করে এনেছিলেন। মামা শম্ভুনাথ সেনকে জানালেন যে, তিনি সমস্ত গহনা যাচাই করে দেখতে চান। শম্ভুনাথ এ ব্যাপারে বরের মতামত জানতে চাইলে অনুপম নিশ্চুপ থাকে। এরপর শম্ভুনাথ বাবু মেয়ের গা থেকে সমস্ত গহনা খুলে নিয়ে আসেন।
প্রশ্ন-২২. 'এইটে একবার পরখ করিয়া দেখো।'- ব্যাখ্যা করো। [ঢা. বো. ২২]
উত্তর: অনুপমদের দেওয়া এয়ারিং খাঁটি সোনার কি না তা সেকরাকে দিয়ে পরীক্ষা করানোর পরিপ্রেক্ষিতে শম্ভুনাথ প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের মামা বিয়ের গহনা পরীক্ষা করার জন্য সেকরা সঙ্গে নিয়ে বিয়েতে আসেন। বিয়ের কাজ শুরুর আগেই তিনি কনেপক্ষের গহনা যাচাই করে নিতে চান। কিন্তু বিষয়টি কনের বাবা শম্ভুনাথের কাছে অপমানের মনে হয়। মূলত তাঁর দেওয়া গহনার চেয়ে বরপক্ষের দেওয়া 'গহনাই যে বেশি খাদযুক্ত সেটি বোঝানোর জন্যই শম্ভুনাথ এয়ারিং পরীক্ষার জন্য প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।
বরপক্ষের দেওয়া এয়ারিংয়ের শুদ্ধতা যাচাই করতেই শম্ভুনাথ প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
প্রশ্ন-২৩. 'এটা আপনাদের জিনিস, আপনাদের কাছেই থাক।'-এরূপ মন্তব্যের কারণ কী? [কু. বো. ২২]
উত্তর: অনুপমের মামার হীন মানসিকতার কারণে কৌশলী এবং অপমানসূচক প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছিলেন কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ সেন।
বিয়ের আসরে কন্যা সম্প্রদানের কাজ স্থগিত রেখে বরের মামা সেকরা দিয়ে কন্যার বাবার দেওয়া গহনা যাচাই করার মতো হীন কাজ করেন। সেকরা দ্বিধাহীনভাবে জানায় কনের সমস্ত গহনাই খাঁটি। শুধু একজোড়া এয়ারিং খাদপূর্ণ ও বিলাতি। সেটি আশীর্বাদের সময় বরের মামা কন্যাকে দিয়েছিলেন। আর এ কারণে কৌশলে বরপক্ষকে অপমান করতে কনের বাবা সেটি বরের মামাকে ফেরত দেন এবং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেন।
প্রশ্ন-২৪. 'বলিলেন, সে কী কথা! লগ্ন।'- কে, কেন বলেছিল? প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বুঝিয়ে দাও। [কু. বো. ১৯]
উত্তর: কল্যাণীর বিয়ের গহনা পরীক্ষা করানোর পর শম্ভুনাথ বরপক্ষকে খাবার কথা বললে অনুপমের মামা অবাক হয়ে লগ্নের কথা উল্লেখ করে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছিলেন।
অনুপমের মামা কল্যাণীর গহনা যাচাই করে দেখতে চাইলে শম্ভুনাথ সেনের আত্মসম্মানে আঘাত লাগে। অনুপম এ ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করলে শম্ভুনাথ স্থির করেন তিনি এমন ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দেবেন না। তাই নিয়ম না থাকলেও শম্ভুনাথ বরকে বিয়ের পূর্বেই খাওয়ার কথা বলেন। আর এতে বিস্মিত হয়ে অনুপমের মামা শম্ভুনাথকে লগ্নের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।
প্রশ্ন-২৫. 'সেজন্য কিছু ভাবিবেন না- এখন উঠুন।'- উক্তিটিতে বস্তার মনোভাব ব্যাখ্যা করো। [ঢা. বো. ২৩]
উত্তর: প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিতে কন্যার পিতা শম্ভুনাথ সেন কন্যাকে বিয়ে না দিয়ে বরপক্ষকে কৌশলে খাইয়ে বিদায় করে দেওয়ার দৃঢ় মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
কল্যাণীর সঙ্গে অনুপমের বিয়ের দিন অনুপমের মামার সেকরা এনে গহনা যাচাই করার ঘটনায় শম্ভুনাথ বাবু ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন। তিনি সেই ক্রোধ চেপে রেখে লগ্নের পূর্বে বর ও বরযাত্রীদের আহারে বসতে বলেন। এক্ষেত্রে লগ্ন নিয়ে বরের মামার আপত্তি তিনি শোনেননি বরং লগ্নের কথা বলা হলে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে অনুপমের মামাকে সেসব নিয়ে ভাবতে নিষেধ করেছেন।
প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিতে শম্ভুনাথ বাবুর চারিত্রিক দৃঢ়তা প্রকাশ পেয়েছে।
প্রশ্ন-২৬. 'তবে আপনাদের গাড়ি বলিয়া দিই!' ব্যাখ্যা করো? [ব. বো. ২৪]
উত্তর: অনুপমের মামাকে উদ্দেশ করে শম্ভুনাথ সেন প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছিলেন।
বরপক্ষ মেয়ের গহনা যাচাই করতে চাওয়ায় শম্ভুনাথ সেন খুব অপমান বোধ করেন। আর এ ব্যাপারে বর নিশ্চুপ থাকায় তিনি খুব অবাক হয়ে যান। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন যারা তাঁকে বিশ্বাস করেন না, তাদের হাতে মেয়ে তুলে দেবেন না। তাই বিয়ের আসরে যাওয়ার পরিবর্তে তিনি পাত্র পক্ষকে খাইয়ে দেন। খাওয়া শেষ হলে তিনি বরপক্ষকে বিদায় দেওয়া প্রসঙ্গে উক্তিটি করেন। এটি শম্ভুনাথের সংক্ষুব্ধ মনের ভদ্রজনোচিত প্রকাশ।
গহনা পরীক্ষার বাড়াবাড়িতে সংক্ষুব্ধ শম্ভুনাথ সেন বিয়ে ভেঙে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তস্বরূপ উক্তিটি করেন।
প্রশ্ন-২৭. 'ঠাট্টা তো আপনিই করিয়া সারিয়াছেন।'- বুঝিয়ে দাও। [চ. বো. ২২; সি. বো. ২২]
উত্তর: প্রশ্নোক্ত উক্তিটি শম্ভুনাথ সেন অনুপমের মামাকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন।
মামা কনের গহনা যাচাই করে দেখতে চাওয়ায় শম্ভুনাথ সেন খুব কষ্ট পান এবং তাঁর আত্মসম্মানে আঘাত লাগে। আর অনুপম এ ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকায় তিনি সিদ্ধান্ত নেন মেয়েকে এ বাড়িতে বিয়ে দেবেন না। তাই তিনি মামাকে গহনা যাচাই করে দেখান, বিয়েতে আমন্ত্রিতদের খাবার খাওয়ান কিন্তু তারপর বলেন যে, সম্পর্কটা স্থায়ী করার ইচ্ছা তাঁর নেই। এ কথা শুনে অনুপমের মামা ভাবেন শম্ভুনাথ ঠাট্টা করছেন। কিন্তু শম্ভুনাথ নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকে বলেন, ঠাট্টা' তিনি নয়, অনুপমের মামা করেছেন। কারণ, মেয়ের গহনা বাবা চুরি করতে পারে এই ধরনের হীন চিন্তাকেই ঠাট্টাই বলা যায়, তার বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে নয়।
প্রশ্নোক্ত উক্তিটি শম্ভুনাথ সেন অনুপমের মামাকে উদ্দেশ করে করেছিল।
প্রশ্ন-২৮. 'ঠাট্টার সম্পর্কটাকে স্থায়ী করিবার ইচ্ছা আমার নাই।' উক্তিটি কোন প্রসঙ্গে করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। [ব. বো. ১৭; সি. বো, ১৬]
উত্তর: অনুপমের সঙ্গে কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে দেওয়াটাকে অনুপমের মামা ঠাট্টা মনে করলে শম্ভুনাথ সেন প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছিলেন।
অনুপমের মামা বিয়ের আগেই সেকরা দিয়ে কনের গায়ের গহনা যাচাই করে দেখতে চান তা আসল কি না। এ কারণে শম্ভুনাথ সেন অপমান বোধ করেন। মামার হীন আচরণের ব্যাপারে পাত্রের নির্লিপ্ততা দেখে তিনি এমন ব্যক্তিত্বহীন ছেলের সঙ্গে মেয়ে বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাই তিনি পাত্রপক্ষকে যথাযথ আপ্যায়নের পর গাড়ি ডেকে বিদায় দিতে চাইলে অনুপমের মামা এ বিষয়টি ঠাট্টা মনে করেন। এর জবাবে শম্ভুনাথ যেন নিজের ও মেয়ের আত্মমর্যাদা রক্ষায় বিয়ে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানতে তিনি শ্লেষমিশ্রিত করে তীর্যক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।
প্রশ্ন-২৯. প্রমাণ হইয়া গেছে, আমি কেহই নই।'- উক্তিটিতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: অনুপমের নিজস্ব কোনো মতামত না থাকায় সে যে পরিবারের গুরুত্বহীন ব্যক্তি, সেই বিষয়টি বোঝাতে অনুপম প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।
'অপরিচিতা' গল্পে অনুপম-কল্যাণীর বিয়ে উপলক্ষ্যে পাত্রপক্ষের সবকিছুর খবরদারি করছিলেন তার মামা। অনুপমের মতামত দেওয়ার কোনো সুযোগই ছিল না। কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথবাবু এটা বুঝতে পেরে বিয়ের আসরে পাত্রপক্ষকে ফিরিয়ে দেওয়ার সময় অনুপমকে কিছু বলার প্রয়োজন বোধ করেননি। এতে মানসিকভাবে ব্যথিত হলেও অনুপম বাস্তবতা স্বীকার করে বলেছে, 'প্রমাণ হইয়া গেছে, আমি কেহই নই।'
প্রশ্ন-৩০. শম্ভুনাথ সেন অনুপমের সঙ্গে কেন মেয়ের বিয়ে দিলেন না? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বিয়ের দিনে অনুপমের মামা হীন মানসিকতা দেখালেও অনুপম তার কোনো প্রতিবাদ করেনি বলে শম্ভুনাথ অনুপমের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিলেন না।
অনুপমের যৌতুকলোভী মামা মেয়ের বিয়েতে শম্ভুনাথের দেওয়া স্বর্ণালংকার সেকরা দিয়ে যাচাই করেন। তার এ হীন মানসিকতা শম্ভুনাথের ব্যক্তিমর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করে। অন্যদিকে, মামার এ আচরণে অনুপমের নির্বিকার থাকা তার পৌরুষহীন, ব্যক্তিত্বরহিত চরিত্রকেই সুস্পষ্ট করে তোলে। আত্মমর্যাদাসম্পন্ন শম্ভুনাথ স্বাভাবিকভাবেই এমন নীচ পরিবারে মেয়ের বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান।
প্রশ্ন-৩১. 'আমাকে একটি কথা বলাও তিনি আবশ্যক বোধ করিলেন না।'- উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো। [চ. বো, ২৫]
উত্তর: প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা শম্ভুনাথ সেনের কাছে অনুপমের গুরুত্বহীনতার বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে।
'অপরিচিতা' গল্পের অনুপম একজন ব্যক্তিত্বহীন, নিস্পন্দিত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অক্ষম পুরুষ। মামার মতামতকে উপেক্ষা করে সে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। মামার ইচ্ছায় মেয়ের গহনা যাচাইয়ের ব্যাপারে যখন অনুপমের মত জানতে চাওয়া হয় তখন সে নিশ্চুপ থাকে, তেমনই আহারে বসার ব্যাপারেও সে তার মামার সিদ্ধান্তকে অমান্য করতে পারে না। তাই শম্ভুনাথ সেন যখন কন্যাদান না করে বরযাত্রীদের বিদায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তখন অনুপমকে তিনি এ ব্যাপারে একটি কথা বলারও প্রয়োজন বোধ করেন না।
অনুপমের গুরুত্বহীনতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে প্রশ্নোক্ত উক্তিতে।
প্রশ্ন-৩২. গল্পকথকদের বাড়ির সকলে রেগে আগুন হলো কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: অনুপমের মামার হীন মানসিকতার কারণে শম্ভুনাথ সেন মেয়েকে বিয়ে না দিয়ে বরযাত্রীদের বিদায় করে দেওয়ায় গল্পকথকের বাড়ির সকলে রেগে আগুন হলো।
অনুপমের মামা শম্ভুনাথ সেনকে বলেন যে, তিনি কনের গহনা যাচাই করে দেখতে চান। এজন্য শম্ভুনাথ অপমান বোধ করেন। আর এ ব্যাপারে গল্পকথক নিশ্চুপ থাকায় তিনি সিদ্ধান্ত নেন মেয়েকে অনুপমের সঙ্গে বিয়ে দেবেন না। তাই গহনা যাচাই করে দেখিয়ে, বরপক্ষকে খাইয়ে বিদায় করে দেন। ফলে গল্পকথকের বাড়ির সকলে | রেগে আগুন হয়ে যায়।
উত্তর: বিয়ের দিনে অনুপমের ব্যক্তিত্বহীনতার পরিচয় পেয়ে শম্ভুনাথ সেনের কল্যাণীর সঙ্গে তার বিয়ে ভেঙে দেওয়ার মতো অভাবনীয় কান্ডে অনেকটা হতবিহ্বল হয়ে অনুপম প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।
অনুপমের বিয়ের লগ্ন উপস্থিত হলে তার লোভী ও বাতিকগ্রস্ত মামা কল্যাণীর বাবার কথায় আস্থা না রেখে বিয়ের আগেই সমস্ত গহনা সেকরা -দিয়ে পরখ করাতে চান। আর এ সময় অনুপম এই অপমানজনক কাজের কোনো প্রতিবাদ না করায় শম্ভুনাথ অপমানিত বোধ করেন এবং কন্যাদানে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন। এ রকম ঘটনা সচরাচর লক্ষ করা যায় না। এরূপ পরিস্থিতিতে শম্ভুনাথ সেন কর্তৃক অনুপমের অপমানের দিকটিকে বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত উক্তিটির উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশ্ন-৩৪. 'সমস্ত মন যে সেই অপরিচিতার পানে ছুটিয়া গিয়াছিল।'-বলতে কী বোঝানো হয়েছে? [রা. বো. ২৫]
উত্তর: কল্যাণীর প্রতি অনুপমের গভীর আকর্ষণের বিষয়টিই প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে বোঝানো হয়েছে।
অনুপমের সঙ্গে কল্যাণীর বিয়ে ঠিক হলেও অনুপম তাকে কখনো দেখেনি। সে শুধু বিনুদার কাছে তার বর্ণনাই শুনেছে। গহনা যাচাই নিয়ে তৈরি হওয়া দ্বন্দ্বের কারণে শম্ভুনাথ বিয়ের দিন কন্যা দানে অস্বীকৃতি জানান। ফলে অনুপমকে ফিরে আসতে হয় বিয়ে না করে। এতে পরিবারের সবার মতো শম্ভুনাথ সেনের প্রতি তারও ক্ষোভ জাগে। কিন্তু এ ক্ষোভের বিপরীতে কল্যাণীর প্রতি তার ভালোবাসার অনুভূতিও বিদ্যমান। কেননা না দেখলেও সেই অপরিচিতার প্রতি তার সমস্ত মন সমর্পিত হয়েছিল।
কল্যাণীর প্রতি অনুপমের যে. গভীর আকর্ষণ তা বোঝানোর জন্যই প্রশ্নোক্ত উক্তিটির অবতারণা করা হয়েছে।
প্রশ্ন-৩৫. এক পদক্ষেপের দূরত্বটুকু কীভাবে এক মুহূর্তে অসীম হয়ে উঠল? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় অনুপমের কাছে এক পদক্ষেপের দূরত্বটুকু এক মুহূর্তে অসীম হয়ে ওঠে।
অনুপমের মামা বিয়ের আগেই কনের সমস্ত গহনা যাচাই করে নিতে চাইলে কনের বাবা শম্ভুনাথ সেন তাতে অপমানবোধ করেন। তাই তিনি কৌশলে বরযাত্রীদের খাইয়ে দিয়ে বিয়ে ভেঙে দেন। বর অনুপম কনের বাবার এরূপ ব্যবহারে ক্রুদ্ধ হলেও কল্যাণীর প্রতি মোহাবিষ্ট ছিল। বিয়ের লগ্ন যখন প্রস্তুত তখন তার প্রণয়াসক্তিকে উপেক্ষা করে আকস্মিকভাবে বিয়ে ভেঙে যাওয়া প্রকৃতপক্ষেই তাদের মধ্যে অসীম দূরত্ব তৈরি করেছে।
প্রশ্ন-৩৬. 'বাহিরে তো সে ধরা দিলই না, তাহাকে মনেও আনিতে পারিলাম না।'- ব্যাখ্যা করো। [ম. বো. ২২]
উত্তর: 'অপরিচিতা' গল্পে বিনুদার বর্ণনা শুনে অনুপম কল্যাণীকে না দেখে পছন্দ করে এবং বিনুদার মধ্যস্ততায় বিয়ে ঠিক হয়। কল্যাণীকে দেখার অনেক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনুপম সাহস করে কখনো এ প্রস্তাব করতে পারেনি। এমনকি কল্যাণীর কোনো ফটোগ্রাফও অনুপমের দেখা হয়নি। এ কারণে কল্যাণীকে কখনো না দেখায় তার অবয়ব অনুপমের স্মৃতিতেও নেই। যার জন্য অনুপমের কাছে কল্যাণী অচেনাই থেকে যায়। অনুপমের মামার হীন মানসিকতার কারণে বিয়ের আসর থেকে বিয়ে না করেই অনুপমকে ফিরে আসতে হয়েছে। ফলে কল্যাণী দেখতে কেমন সে কল্পনাও করতে পারে না অনুপম। আর এ প্রসঙ্গেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
প্রশ্ন-৩৭. 'কই, কিছুই তো হয়নি বাবা'- কী প্রসঙ্গে বলা হয়েছে?
উত্তর: অনুপমের সঙ্গে কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর অনুপমের কল্পনায় কল্যাণীর লুকিয়ে কাঁদার পরিপ্রেক্ষিতে কল্যাণী প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।
'অপরিচিতা' গল্পে যৌতুককে কেন্দ্র করে কল্যাণীর সঙ্গে বিয়ে ভেঙে যায় অনুপমের। বিয়ে ভাঙার পর অনুপম জানতে পারে কল্যাণী আর বিয়ে করতে চায় না। ফলে অনুপমের কল্পনায় অন্য দশটা মেয়ের মতোই কল্যাণীর রূপ ভেসে ওঠে। অনুপম ভাবে কল্যাণী হয়তো বিয়ে ভাঙার কারণে ঠিকমতো খাওয়াদাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছে। কোনো একদিন হয়তো তার বাবা ঘরে এসে দেখে কল্যাণীর চোখভরা জল। বাবা জানতে চাইলে তখন কল্যাণী হয়তো বলে, 'কই, কিছুই তো হয়নি বাবা'।
বিয়ে ভাঙার পর কোনো একসময় শম্ভুনাথ মেয়ের চোখে পানি দেখে কান্নার কারণ জানতে চাইলে কল্যাণী হয়তো প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে বলে অনুপম মনে মনে ভাবে।
প্রশ্ন-৩৮. 'গাড়িতে জায়গা আছে।'- উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: 'গাড়িতে জায়গা আছে' উক্তিটি গানের ধুয়ার মতো অনুপমের হৃদয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
'অপরিচিতা' গল্পে অনুপম মাকে নিয়ে তীর্থযাত্রার সময় অন্ধকার রাতে কোনো এক স্টেশনে অনুপম একটি মেয়ের কন্ঠ শুনতে পায়। মেয়েটি তার সহযাত্রীদের বলে, 'শিগগির চলে আয় এই গাড়িতে জায়গা আছে।' এই মধুর কণ্ঠে বলা কথাটি অনুপমের মনে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তবে মেয়েটি কে তা অনুপম জানতে পারে না। কিন্তু সেই স্বর আর কণ্ঠ অনুপমের কাছে সত্য হয়ে ধরা দেয়। হৃদয়ের মধ্যে গভীর ছায়াপাত তৈরি করে। রেলগাড়ির মৃদু তালের সঙ্গে সেই মেয়েটির বলা কথাটি যেন সে গানের ধুয়ার বারবার শুনতে পায়।
প্রশ্ন-৩৯. 'আমি তো চমকিয়া উঠিলাম।'- কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত কথাটির মাধ্যমে কল্যাণীর সুমধুর কণ্ঠ শুনে অনুপমের চমকে ওঠা ভাবকে বোঝানো হয়েছে।
কানপুর স্টেশনে অনুপম একটি নারীকণ্ঠ শুনে মুগ্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে অনুপমের হৃদয়পটে সেই কণ্ঠস্বরটি বাজতে থাকে। পরে যখন অনুপম গাড়িতে জায়গা পাচ্ছিল না, এমন সময় সেই মেয়েটি অনুপমের
মাকে লক্ষ করে বলে, তাদের গাড়িতে জায়গা আছে এবং সেখানে গিয়ে বসতে। আর এভাবেই সেই কণ্ঠটি আবার শুনে অনুপম চমকে ওঠে। এখানে মূলত, কল্যাণীর আশ্চর্যসুন্দর কণ্ঠস্বর শুনে পুলকিত অনুপমের মানসিক অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে।
প্রশ্ন-৪০, 'এমন তো আর শুনি নাই'- এ কথাটি দ্বারা 'অপরাজিতা' গল্পে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: 'এমন তো আর শুনি নাই'- কথাটি দ্বারা 'অপরিচিতা' গল্পে কল্যাণীর গলার স্বরের কথা বোঝানো হয়েছে।
'অপরিচিতা' গল্পে অনুপম ট্রেনে করে তার মাকে নিয়ে তীর্থে যাচ্ছিল। হঠাৎ করে সে শুনতে পায় কেউ একজন বলছে 'শিগগির চলে আয় এই গাড়িতে জায়গা আছে।' এটা শোনার পর অনুপমের কাছে মনে হয় সে যেন গান শুনল। অসময়, অচেনা জায়গায় আচমকা মেয়ে মানুষের গলায় বাংলা কথা কত যে মধুর তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু অনুপম কণ্ঠটিকে কেবল একটি মেয়ের কণ্ঠ মনে না করে একটি মানুষের কণ্ঠ মনে করেছে যে কণ্ঠ শুনলে মন বলে ওঠে 'এমন তো আর শুনি নাই।'
প্রশ্ন-৪১. 'সেই সুধাকণ্ঠের সোনার কাঠিতে সকল কথা যে সোনা হইয়া ওঠে।' এ কথা কেন বলা হয়েছে?
উত্তর: প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে কল্যাণীর কণ্ঠের মিষ্টতাকে বোঝানো হয়েছে।
ট্রেনে ভ্রমণকালে কল্যাণীর সঙ্গে দু-তিনটি ছোটো ছোটো মেয়ে ছিল। তারা বারবার কল্যাণীর কাছে বায়না ধরছিল গল্পের বই থেকে গল্প পড়ে শোনাতে। অনুপমের মনে হলো, এই গল্প তারা কল্যাণীর মুখ থেকে পূর্বে বিশ-পঁচিশবার হয়তো শুনেছে। তবু তাদের এত আগ্রহের একমাত্র কারণ হলো, কল্যাণীর সুমধুর কণ্ঠের কথামালার সৌন্দর্য। অনুপম অনুভব করল, কল্যাণীর কণ্ঠের মিষ্টতায় সাধারণ কথাও অসাধারণ ব্যঞ্জনদীপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন-৪২. 'ছোটোদের সঙ্গে সে অনায়াসে এবং আনন্দে ছোটো হইয়া গিয়াছিল।'- উক্তিটির তাৎপর্য বর্ণনা করো। [চ. বো. ২৩]
উত্তর: অত্যন্ত মিশুক ও সংবেদনশীল কল্যাণী সম্পর্কে প্রশ্নোক্ত কথা বলা হয়েছে।
'অপরিচিতা' গল্পে ছোটোদের সঙ্গে মিষ্টি ভাষায় কথা বলা কল্যাণীর সঙ্গে দুই-তিনটি মেয়ে ছিল। তাদের সঙ্গে কল্যাণী অনায়াসে ও আনন্দে ছোটো হয়ে গিয়েছিল। কারণ পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী স্বচ্ছন্দে চলতে গেলে বয়সের তফাতটাকে ভুলে থাকতে হয়। অন্য মেয়েদের সঙ্গে বয়সের তফাতটা ধরে রাখলে হাসি-আনন্দটা কিছুতেই করা হতো না। এই মনোভাবটি যে অত্যন্ত ইতিবাচক তা বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
কল্যাণী তার চেয়ে বয়সে ছোটো মেয়েদের সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যে হাসি-আনন্দ করছিল বলে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
প্রশ্ন-৪৩. 'তার পরে বুঝিলাম, মাতৃভূমি আছে।'- বলতে কী বোঝানো হয়েছে? [কু. বো. ২৪; সি. বো. ১৯]
উত্তর: কল্যাণীর নারী শিক্ষার ব্রত গ্রহণ সম্পর্কে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে অনুপম।
অনুপম কানপুরে এসে কল্যাণী ও তার পিতার সামনে হাতজোড় করে, মাথা হেঁট করে ক্ষমা চেয়ে আবার বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু কল্যাণী ততদিনে দাম্পত্য জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে, সে মনোযোগী হয়েছে দেশমাতৃকার সেবার প্রতি। তাই অনুপমকে ফিরিয়ে দিয়ে সে বলে 'মাতৃ-আজ্ঞা' আছে। অনুপম বুঝতে পারে, মাতৃ-আজ্ঞা মানে মাতৃভূমির জন্য কল্যাণীর উৎসর্গিত প্রাণ। তাই অনুপম বলেছে 'তার পর বুঝিলাম, মাতৃভূমি আছে।'
পুনর্বার বিয়েতে রাজি না হওয়ার কারণ হিসেবে কল্যাণীর বলা উক্তির মর্মার্থ সম্পর্কে অনুপম প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছে।
প্রশ্ন-৪৪. কল্যাণী কেন মেয়েদের শিক্ষার ব্রত গ্রহণ করেছিল?
উত্তর: অনুপমের সঙ্গে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর কল্যাণী দেশসেবার মাধ্যম হিসেবে মেয়েদের শিক্ষার ব্রত গ্রহণ করেছিল।
কল্যাণী তার বাবার মতোই আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন ছিল। তাই অনুপমের সঙ্গে বিয়ে ভাঙার পর সে অন্য কোনো সম্পর্কে জড়াতে চায়নি। তাই সে বিয়ে না করে মেয়েদের শিক্ষার ব্রত গ্রহণ করে।
প্রশ্ন-৪৫. 'নিতান্ত এক ছেলে বলিয়া মা আমাকে ছাড়িতে পারেন নাই'- বলতে কী বোঝানো হয়েছে? [চ. বো. ২৪]
উত্তর: 'নিতান্ত এক ছেলে বলে মা আমাকে ছাড়িতে পারেন নাই।'- বলতে মা ও মামার সঙ্গে অনুপমের সম্পর্কের অবনতিকে বোঝানো হয়েছে।
কল্যাণীর প্রতি আকর্ষণ থেকে অনুপম মামা ও মায়ের নিষেধ অগ্রাহ্য করে কানপুরে আসে কল্যাণী ও তার পিতার সঙ্গে দেখা করতে। অনুপম কল্যাণী ও তার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার মূল হোতা মামার সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে। কিন্তু এসবের পরেও মায়ের সঙ্গে অনুপমের সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ থাকে কারণ অনুপম তার মায়ের একমাত্র ছেলে, তাই ছেলে কথার অবাধ্য হলেও মা ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করতে পারেননি।
নিষেধ অগ্রাহ্য করে কল্যাণী ও তার পিতার সঙ্গে দেখা করতে গেলে মামা সম্পর্ক ছিন্ন করেন কিন্তু অনুপম মায়ের একমাত্র ছেলে হওয়ায় মা তাকে ছাড়তে পারেননি।
প্রশ্ন-৪৬. 'কিন্তু ভাগ্য আমার ভালো, এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি।'-বক্তার এমন অনুভূতির কারণ বুঝিয়ে লেখো।' [য. বো. ১৭]
বা , 'এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি।'- ব্যাখ্যা করো। [ঢা. বো. ২৫; রা. বো. ২৪; চ. বো. ১৯]
উত্তর: প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মধ্য দিয়ে অনুপমের কল্যাণীর কাছাকাছি থাকতে পারার আনন্দানুভূতি প্রকাশ পেয়েছে।
কানপুরে পৌঁছে কল্যাণীর পরিচয় জানতে পেরে অনুপমের হৃদয় আবারও কল্যাণীর চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়। সে কল্যাণীকে বিয়ে করতে চাইলেও কল্যাণী রাজি হয় না। কল্যাণীর কাছাকাছি থাকার জন্য সে কানপুরেই বসবাস করতে শুরু করে। সে অন্তরঙ্গতা না পেলেও দর্শন তৃষ্ণা কাতরতা থেকে সুযোগ পেলেই সে কল্যাণীর কাজে সাহায্য করে। কল্যাণীর আশেপাশে থাকার সুযোগটাকেই সে শূন্য জীবনের পরম পাওয়া বলে মনে করে।
কল্যাণীর কাছাকাছি থাকার সুযোগকেই অনুপম তার হৃদয়ে জায়গা পাওয়া বলে নিজেকে সান্ত্বনা দিয়েছে।
