বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যকণিকা
বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
বঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি পরামর্শমূলক প্রবন্ধ। বক্তব্যের ভৎপর্য বিচার করলে প্রবন্ধটির রয়েছে সর্বকালীন বৈশ্বিক আবেদন। এটি ১৮৮৫ সালে 'প্রচার' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। পরে এটি তাঁর 'বিবিধ প্রবন্ধ' নামক গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সাধু রীতিতে লেখা এই প্রবন্ধটি আকারে ছোটো হলেও চিন্তার মৌলিকত্বে অসাধারণ। নতুন লেখকদের প্রতি তিনি যে পরামর্শ এখানে উপস্থাপন করেছেন, তার প্রতিটি বক্তব্যই পালনযোগ্য। তিনি বলেন, খ্যাতি বা অর্থের উদ্দেশ্যে নয়; লিখতে হবে মানুষের কল্যাণ সাধন কিংবা সৌন্দর্য সৃষ্টির অভিপ্রায়ে। বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, অসত্য, নীতি-নৈতিকতা বিরোধী কিংবা পরনিন্দার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা স্বার্থতাড়িত লেখা পরিহার করা বাঞ্ছনীয়। তিনি বলতে চান, নতুন লেখকরা কিছু লিখে তাৎক্ষণিকভাবে না ছাপিয়ে কিছুদিন অপেক্ষা করে বারবার পাঠ ও সংশোধন করলে লেখাটি সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। যার যে বিষয়ে অধিকার নেই সেই বিষয়ে লেখার চেষ্টা করা যেমন অনুচিত, তেমনই লেখায় বিদ্যা জাহির করার প্রবণতাকেও তিনি নিন্দনীয় বলে মনে করেছেন। পাশাপাশি তিনি অনুকরণবৃত্তিকে দূষণীয় বলেছেন।
অনাবশ্যকভাবে লেখার সৌষ্ঠব বৃদ্ধি বা পরিহাস করার চেষ্টাও তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। সারল্যকেই তিনি সকল অলংকারের মধ্যে শ্রেষ্ঠ অলংকার বলে মনে করেছেন। সর্বোপরি তিনি বস্তুনিষ্ঠতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এভাবে এই ছোটো লেখাটিতে তিনি লেখকের আদর্শ কী হওয়া উচিত তা অত্যাবশ্যকীয় শব্দ প্রয়োগে উপস্থাপন করেছেন। নবীন লেখকরা বঙ্কিমচন্দ্রের পরামর্শ অনুসরণ করলে লেখক ও পাঠক উভয়েই নিশ্চিতভাবে উপকৃত হবেন, তেমনই আমাদের মননশীল ও সৃজনশীল জগৎ আরও সমৃদ্ধ হবে।
|
নাম |
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় |
|
|
জন্ম পরিচয় |
জন্ম তারিখ: |
২৬শে জুন, ১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দ। |
|
জন্মস্থান: |
কাঁঠালপাড়া, চব্বিশ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ। |
|
|
শিক্ষাজীবন |
মাধ্যমিক: |
এন্ট্রান্স (১৮৫৭), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। |
|
উচ্চতর: |
বিএ (১৮৫৮), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (প্রথম স্নাতকদের 'মধ্যে তিনি একজন); বিএল, প্রেসিডেন্সি কলেজ। |
|
|
কর্মজীবন/পেশা |
পদবি : |
ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। |
|
কর্মস্থল: |
যশোর, খুলনা, মুর্শিদাবাদ, হুগলি, মেদিনীপুর, বারাসাত, হাওড়া, আলীপুর প্রভৃতি। বঙ্কিমচন্দ্রের সাহিত্যচর্চা শুরু ১৮৫২ খ্রিষ্টাব্দে 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে। |
|
|
সাহিত্যকর্ম |
উপন্যাস: |
দুর্গেশনন্দিনী, কপালকুণ্ডলা, মৃণালিনী, বিষবৃক্ষ, কৃষ্ণকান্তের উইল, রজনী, আনন্দমঠ, চন্দ্রশেখর, দেবী চৌধুরাণী, রাজসিংহ, Rajmohan's Wife, সীতারাম প্রভৃতি। |
|
প্রবন্ধগ্রন্থ: |
লোকরহস্য, বিজ্ঞানরহস্য, সাম্য, কৃষ্ণচরিত্র, বিবিধ প্রবন্ধ, ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন প্রভৃতি। কমলাকান্তের দপ্তর, 'মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত' তাঁর হাস্যরসাত্মক নকশা জাতীয় গদ্যরচনা। |
|
|
বিশেষ কৃতিত্ব |
তাঁর প্রথম উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস। উপন্যাস ও প্রবন্ধ রচনার বাইরে 'বঙ্গদর্শন' (১৮৭২) পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ তাঁর অনন্য কীর্তি। |
|
|
খেতাব ও সম্মাননা |
সাহিত্যসম্রাট'- সাহিত্যের রসবোদ্ধাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত খেতাব। 'ঋষি'- হিন্দুধর্মানুরাগীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত খেতাব। 'রায়বাহাদুর'- ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত খেতাব। |
|
|
জীবনাবসান |
৮ই এপ্রিল, ১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দ, কলকাতা। |
|
এক নজরে পাঠের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'প্রচার' পত্রিকায় ১৮৮৫ সালে; পরে এটি তাঁর 'বিবিধ প্রবন্ধ' নামক গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়।
'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনাটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'বিবিধ প্রবন্ধ' গ্রন্থ থেকে সংকলিত। এই 'রচনার মধ্য দিয়ে লেখক বাংলার নতুন ও তরুণ লেখকদের কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, নব্য লেখকরা এই নির্দেশগুলো মনে রেখে সাহিত্য রচনা করলে বাংলা সাহিত্যের উন্নতি হবে। তাই তিনি এই রচনায় নতুন লেখকদের বলেছেন, তারা যেন যশ বা খ্যাতির জন্য সাহিত্য সৃষ্টি না করেন। যদিও বিদেশে অনেক লেখক টাকার জন্য লেখেন কিন্তু আমাদের দেশে এখনও সেই রকম দিন আসেনি। আমাদের লেখকরা অর্থের জন্য লিখতে গেলে তাতে লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হয়ে পড়বে। ফলে রচনা বিকৃত ও অনিষ্টকর হবে। তিনি মানুষের মঙ্গল হবে বা মানবকল্যাণ সাধিত হবে এমন সাহিত্য রচনা করতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, সৌন্দর্য সৃষ্টি করতে পারলে অবশ্যই লেখা উচিত। তিনি সাহিত্যে পরনিন্দা বা নিজের স্বার্থসিদ্ধি হবে এমন লেখাকে মহাপাপ বলে মনে করেন। তিনি রচনা সৃষ্টি করে হঠাৎ করে তা ছাপাতে নিষেধ করেছেন। কিছুদিন রেখে দিয়ে পুনরায় তা সম্পাদনা করতে বলেছেন। এতে লেখাটি উৎকর্ষ লাভ করে। তিনি নতুন লেখককে এমন বিষয় নিয়ে লিখতে বলেছেন যা তার জানা। নিজের বিদ্যা জোর করে প্রকাশ করা থেকেও তিনি বিরত থাকতে বলেছেন। কারণ তাতে পাঠক বিরক্ত হতে পারে। অলংকার ব্যবহারেও তিনি নতুন লেখকদের যথেষ্ট সচেতন হতে বলেছেন। কেননা জোর করে অলংকার প্রয়োগ করতে গেলে সৌন্দর্যের বদলে রচনাটি কদাকার হবে। যে কাজগুলো করলে নতুন লেখকদের ভালো হবে, তাদের সাহিত্য উৎকর্ষমণ্ডিত হবে তা-ই করতে তিনি এই রচনায় নিবেদন করেছেন। তাই বলা যায় যে, প্রবন্ধের নামকরণ 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' সার্থক ও যথার্থ।
♦বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৬৫ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম শিল্পসম্মত ও সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' রচনা করেন।
♦বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অনন্য কীর্তি 'বঙ্গদর্শন' (১৮৭২) পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ।
♦বাংলা কথাসাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাহিত্যসম্রাট' বলে খ্যাত।
♦'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনাটি ১৮৮৫ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় 'প্রচার' পত্রিকায়। পরে এটি লেখকের 'বিবিধ প্রবন্ধ' নামক গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়।
♦বঙ্কিমচন্দ্র যশের জন্য লিখতে নিষেধ করেছেন। কারণ তাতে লেখা ভালো হয় না।
♦বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে লিখলে লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হয়ে ওঠে।
♦বঙ্কিমচন্দ্র মনে করেন, লিখতে হবে দেশ ও মানবজাতির মঙ্গলের জন্য।
♦বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, সৌন্দর্য সৃষ্টি করতে পারলে অবশ্যই লেখা উচিত।
♦বঙ্কিমচন্দ্র মনে করেন, ব্যক্তিস্বার্থ সিদ্ধির জন্য সাহিত্য রচনাকারী নীচ ব্যবসায়ী হিসেবে গণ্য।
♦অসত্য, অধর্ম, পরপীড়াদায়ক লেখা থেকে বিরত থাকতে হবে।
♦লিখেই তা তখনই ছাপানো উচিত নয়। কিছু কাল রেখে দিয়ে' পুনরায় সংশোধন করলে লেখার উৎকর্ষ বৃদ্ধি পায়।
♦অন্যান্য ভাষার কোটেশন সাহিত্যে যত কম দেওয়া যায় ততই ভালো।
♦প্রয়োজন ছাড়া অলংকার প্রয়োগ করা অনুচিত। এতে রচনা সুন্দর হওয়ার বদলে আরও কদর্য হবে।
♦সাহিত্যের ভাষা সহজ-সরল হওয়া উচিত।
♦যেটার প্রমাণ দেওয়া যাবে না, সেটা না লেখাই উত্তম।
উৎকৃষ্ট সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য সৌন্দর্য সৃষ্টি। কোনো লেখক যদি সেই রচনার মধ্য দিয়ে যশ বা খ্যাতি অর্জন করতে চান তাহলে তা যথার্থ লেখা হয়ে ওঠে না। আর লেখা ভালো হলে যশ এমনি এমনিই আসবে। তাই লেখক মনে করেন, যশ লাভের উদ্দেশ্যে সাহিত্য রচনা না করাই উত্তম।
►"অর্থের উদ্দেশ্যে লিখিতে গেলে, লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হইয়া পড়ে।"
টাকা বা অর্থ লাভের জন্য সাহিত্য রচনা উচিত নয়। বিদেশে, বিশেষ করে ইউরোপে অনেক লোক এখন টাকার জন্য লেখে। তারা টাকাও পায়, লেখাও ভালো হয়। কিন্তু আমাদের দেশে এখনও তা প্রচলিত নয়। অর্থের উদ্দেশ্যে লিখতে গেলে পাঠকের রুচি ও পছন্দের দিকটিকে গুরুত্ব দিতে হয়। এতে লোকের মনোরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হয়, ফলে রচনা বিকৃত ও অনিষ্টকর হয়ে পড়ে।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, লেখক যদি বুঝতে পারেন যে তিনি লিখলে দেশ ও মানবজাতির কল্যাণ হবে তবে তিনি অবশ্যই লিখবেন। অথবা, সৌন্দর্য সৃষ্টি করতে পারলেও লিখবেন। যদি অর্থ উপার্জন বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে লেখেন তবে তিনি যাত্রাওয়ালা প্রভৃতি নীচ ব্যবসায়ীর সঙ্গে তুলনীয় হবেন।
►"অন্য উদ্দেশ্যে লেখনী-ধারণ মহাপাপ।"
লেখার উদ্দেশ্য সৌন্দর্য সৃষ্টি বা মানবজাতির কল্যাণ। যা অসত্য বা ধর্মবিরুদ্ধ তা লেখা উচিত নয়। প্রবন্ধে অন্যকে কষ্ট দেয় বা নিজের স্বার্থের জন্য কোনো কিছু লেখা অনুচিত। সত্য ও ধর্মই সাহিত্যের উদ্দেশ্য। অন্য উদ্দেশ্যে সাহিত্য রচনা মহাপাপ।
►"যাহা লিখিবেন, তাহা হঠাৎ ছাপাইবেন না।"
লেখকমাত্রই নিজের লেখা ছাপার অক্ষরে দেখতে ভালোবাসেন। কিন্তু প্রাবন্ধিকের মতে, লেখা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ছাপানো উচিত নয়। তা কিছু কাল ফেলে রেখে সংশোধন করা উচিত। এতে রচনার উৎকর্ষ সাধিত হয়। রচনার দোষগুলো কেটে যায়। সাময়িক সাহিত্যের ক্ষেত্রে এই নিয়মটি রক্ষা করা হয় না। তাই সাময়িক সাহিত্য লেখকের পক্ষে ক্ষতিকর। কারণ ছাপা হয়ে গেলে তা আর সংশোধনের সুযোগ থাকে না।'
►"বিদ্যা থাকিলে, তাহা আপনিই প্রকাশ পায়, চেষ্টা করিতে হয় না।”
আমাদের সমাজে একশ্রেণির লেখক লেখার মধ্য দিয়ে বিদ্যা জাহির করতে তৎপর। কিন্তু বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা করলে সেই সাহিত্য পাঠকের কাছে বিরক্তির কারণ হয়। অথচ লেখকের বিদ্যা বা প্রতিভা থাকলে তা আপনা-আপনিই রচনায় প্রকাশ পাবে।
►"অসময়ে বা শূন্য ভান্ডারে অলংকার প্রয়োগের বা রসিকতার চেষ্টার মতো কদর্য আর কিছুই নাই।”
অলংকার সাহিত্যের সৌন্দর্য সৃষ্টি করে। সাহিত্যের রস বা নির্যাস অনেকাংশেই অলংকারের ওপর নির্ভরশীল। তবে তা অবশ্যই যথাস্থানে। অযথা যেখানে সেখানে উপমা, অলংকার বা রসিকতা করলে সাহিত্য সৌন্দর্যের বদলে আরও কুৎসিত হবে। আর অলংকার প্রয়োগ বা রসিকতা ব্যবহারের জন্য জোর করে চেষ্টা করা যাবে না। লেখকের ভান্ডারে তা থাকলে আপনা-আপনিই আসবে। না থাকলে মাথা কুটে মরে গেলেও আসবে না।
►“সকল অলংকারের শ্রেষ্ঠ অলংকার সরলতা।”
সাহিত্যের সবচেয়ে বড় গুণ হলো প্রাঞ্জলতা বা সরলতা। সোজা ও সহজ ভাষায় মনের ভাব পাঠককে বোঝাতে হবে। যে লেখক সহজ ভাষায় পাঠকের কাছে তাঁর সৃষ্টি তুলে ধরতে পারবেন তিনিই শ্রেষ্ঠ লেখক।
►"অনুকরণে দোষগুলি অনুকৃত হয়, গুণগুলি হয় না।”
অনেক লেখক অন্য লেখক দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তাকে অনুকরণ করে সাহিত্য রচনায় প্রবৃত্ত হন। কিন্তু এ রকম অনুকরণপ্রিয়তা সাহিত্যের জন্য ক্ষতিকর। লেখক কারও দ্বারা অনুপ্রাণিত হতে পারেন, তবে অনুকরণ করলে বেশিরভাগ সময় দোষগুলোই অনুকৃত হয়, গুণগুলো নয়।
►অর্থের জন্য লেখা: সাহিত্য যখন অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে রচনা করা হয় তখন সেটাকে প্রকৃত সাহিত্য বলা যায় না। অর্থের জন্য রচিত সাহিত্যের মধ্যে থাকে লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি। আর লোকরঞ্জন সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য নয়। লোকের মনোরঞ্জনের জন্য রচিত সাহিত্য বিকৃত ও রুচি বহির্ভূত হয়। তাই সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য অর্থ উপার্জন- এই প্রবণতা বাদ দিতে হবে। আর কারও মনোরঞ্জনের চেষ্টা পুরোপুরি বর্জন করতে হবে।
►মঙ্গল সাধন ও সৌন্দর্য সৃষ্টি: সাহিত্য রচনা করে যদি মানবজাতির মঙ্গল সাধন ও সৌন্দর্য সৃষ্টি করা যায় তবেই সেই সাহিত্য উৎকৃষ্ট সাহিত্য হয়। সৌন্দর্য সৃষ্টি বা কল্যাণ সাধন ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে যদি লেখা হয় তাহলে রচনাকারীকে ব্যবসায়ী হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই লেখকের প্রধান উদ্দেশ্য হতে হবে দেশ ও মানবজাতির মঙ্গল কিংবা সৌন্দর্য সৃষ্টি।
►সত্য ও ধর্ম: সত্য ও ধর্ম হলো সাহিত্যের উদ্দেশ্য। অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধ; পরনিন্দা বা স্বার্থসাধন সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। এ ধরনের সাহিত্য কারও জন্য মঙ্গলজনক নয়। তাই সাহিত্যে অসত্য ও ধর্মবিরুদ্ধ কথা বর্জন করতে হবে।
►সাময়িক সাহিত্য: কোনো সাহিত্য রচনা করে সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ করলে তা লেখকের জন্য অবনতিকর। তাই সাহিত্য রচনার পর কিছুকাল ফেলে রাখতে হয়। তারপর পুনরায় সংশোধন করলে সেই সাহিত্য বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে। তাই যা লেখা হয় তা হঠাৎ না ছাপিয়ে কিছুকাল অপেক্ষা করে, পুনরায় সংশোধন করে তারপর ছাপাতে হবে।
►সরলতা: সরলতা সাহিত্যের অন্যতম একটি গুণ। সরলতা হলো সকল অলংকারের শ্রেষ্ঠ অলংকার। যে লেখক সরল ভাষায় মনের কথা পাঠককে বোঝাতে পারেন সেই লেখকই শ্রেষ্ঠ লেখক। কেননা লেখার মূল উদ্দেশ্য হলো পাঠককে বোঝানো। তাই লেখার সময় যথাসম্ভব সহজ-সরল ভাষা ব্যবহার করতে হবে।
